ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের এনডাউমেন্ট ফান্ডই হবে কয়েক হাজার কোটি টাকা

IMG-20240517-WA0153(1)

সাবেক শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের ব্যাপক উন্নয়নে সম্পৃক্ত হতে প্রস্তুত। সারাদেশে ও সারাবিশ্বে নানা পেশায় সফল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক লাখ লাখ সাবেক ছাত্রছাত্রী। তারা দেশের প্রাচীনতম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন কার্যক্রমে সহযোগীতা দিতে প্রস্তুত। সঠিক উদ্যোগ নিয়ে তহবিল সংগৃহ করতে পারলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা উন্নয়নে বিনিয়োগযোগ্য তহবিল বা এনডাউমেন্ট ফান্ডই হতে পারে কয়েক কয়েক হাজার কোটি টাকার। গত বৃহষ্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ডুয়া’র বার্ষিক সাধারণ সভায় এসব কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট অ্যালামনাসগণ এবং ডুয়া’র নেতারা। ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে, ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এর সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ- এর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক সীতেশ চন্দ্র বাছার। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সাবেক ভিসি অ্যাধাপক ড. এ কে আজাদ, অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামান এমপি, শাহরিয়ার জাহেদি এমপি, সাবেক সিনিয়র সচিব সোহরাব হোসেন এবং ডুয়া’র মহাসচিব অ্যাডভোকেট মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওসার সহ ঢাবির বিশিষ্ট অ্যালামনাসগণ। অনুষ্ঠানের শুরুতে ডুয়া’র কোষাধ্যক্ষ মাহবুব হোসেন সংগঠনের আর্থিক প্রতিবেদন পেশকালে জানান ২০২৩ সালে সংগঠনের আয় হয়েছে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা আর ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। সুনামগঞ্জে বন্যা দুর্গত দশ পরিবারকে ডুয়া ৩১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ব্যয়ে গৃহনির্মান কর দেয় , বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবহনের জন্য দুটি বাস ক্রয়ে ডুয়া ব্যয় করে ৮৪ লাখ টাকা আর বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার জন্য ডুয়া দিয়েছে ২৫ লক্ষ টাকার তহবিল। কোষাধ্যক্ষ জানান ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত ডুয়া’র মোট সম্পদ ছিলো ১৪ কোটি ১০ লক্ষ ৪১ হাজার ৩৭০ টাকার।শিক্ষার্থীদের বাস ও বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার জন্য ডুয়া’র তহবিলের প্রসঙ্গ টেনে ডুয়া নেতৃবৃন্দ ও অতিথিগণের কয়েকজনই তা্দের বক্তব্যে বলেন, ইউরোপ আমেরিকায় অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা উন্নয়নে অ্যালামনাস সহ বিশিষ্ট ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দেয়া বিনিয়োগযোগ্য তহবিল বা এনডাউমেন্ট ফান্ডই থাকে কয়েক বিলিয়ন ডলার। সঠিক উদ্যোগ নিয়ে সংগ্রহ করতে পারলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন তহবিলও অল্প সময়ের মধ্যেই কয়েক’শ কোটি টাকা এমন কি হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।সভার প্রধান অতিথি অধ্যাপক সীতেশ চন্দ্র বাছার ইউনিভার্সিটির নতুন একাডেমিক ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানে গবেষেণাকেন্দ্রীক কাজে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে। দির্ঘমেয়াদী গবেষণা প্রকল্পে ১৪০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। তার মতে গবেষণায় জন্য ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমিয়া রিলেশনশিপ ভীষণ জরুরি, ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টদের সহযোগিতাও জরুরি। তিনি বলেন, প্রতি বছর ৬ হাজার নতুন শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়, যাদের সিংহভাগই গ্রাম থেকে আসে। তাদের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে প্রথম র্বষ থেকেই কমপক্ষে একটি বৃত্তির ব্যবস্থা করা জরুরি। তিনি জানান বিশ্ববিদ্যালয় নতুন ৫টি প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যার মধ্যে উল্লখযোগ্য হলো সুন্দর উন্মুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠানের জন্য টিএসসি আধুনিকায়ন এবং লাইব্রেরি ও ট্রেজারার অফিসের নতুন ভবন। সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. একে আজাদ চৌধুরী বলেন, যুগে যুগে ঢাকা ইউনিভার্সিটির অ্যালামনাসগণ দেশকে অনন্য উচ্চতায় তুলে ধরতে কাজ করে গেছে। এখন দেশ অবকাঠামোগত উন্নয়নে এগুলেও ইন্টেলেকচুয়াল উন্নয়নে অনেকাংশে পিছিয় আছে। যেদেশে বাজেটে নগন্য বরাদ্ধ থাকে গবেষণার জন্য সে দেশ কিভাবে উন্নত দেশের সাথে পাল্লা দেবে সে প্রশ্নও রাখেন তিনি।অনুষ্ঠানের সভাপতি এবং ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এর নেতা্ আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন ইন্ডাস্ট্রিকে আস্থায় না নিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শতো বা হাজার কোটি টাকার গবেষণা প্রকল্পও সফল হবে না। তার মতে ইন্ডাস্ট্রিই গবেষণার ব্যবহারকারী আর ইন্ডাস্ট্রির চাহিদাই বলে দেয় কোন গবেষণা কার্যকর ও ব্যবহারযোগ্য। তিনি বলেন, হার্ভাড বিশ্ববিদ্যলয় একটি চেয়ার দান করলেও তা লিখিত রাখা হয় আর এদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যালামনাগণ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ভবন তৈরি করে দেয়ার প্রস্তাব দিলে তা ঝুলে থাকে বছরের পর বছর। তার মতে উন্নত বিশ্বের মতো করপোরেটগুলোর সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক উন্নয়ন জুরুরি। সেটি হলে স্পন্সরশিপ ছাড়াও শিক্ষা অবকাঠামো ও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা, নেতৃত্ব প্রশিক্ষন ও মানসিক উন্নয়নসহ নানা উদ্যোগের একযোগে কাজের ক্ষেত্র তৈরি হবে। ডুয়া’র নেতা জানান সারাদেশে ও সারাবিশ্বে অবস্থান করা ঢাকা বিশ্ববিস্যালয়ের অ্যালামনাসদের সেতুবন্ধন হিসেবে একটি ডিজিটাল নেটওয়ার্ক প্লাটফর্ম কানেক্ট (Konnekt) গড়ে তুলেছে ডুয়া। এটিতে যুক্ত হয়ে তার একে অপরের সাথে সহজে সংযোগ স্থাপন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও শিক্ষার্থী ও দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবেন। তিনি আরো জানান শিক্ষার্থীদের মোরাল ভ্যালু উন্নয়নের জন্য ডুয়া কর্মসুচি নিয়েছে। সমাজ উন্নয়নে শিক্ষার্থী কর্মসূচিটি এরই মধ্যে সারাদশে সাড়া জাগিয়েছে। বিশিষ্ট অ্যালামনাস ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতার উজ্জান, এমপি বলেন, ঢাকা ইউনিভার্সিটি শুরু হয় একটি রেসিডেন্সিয়া্ল ইউনিভাসিটি হিসেবে কিন্তু এখন এখানে আদর্শ পরিবেশ নেই। তুখোর এই সাবেক ছাত্রনেতা চ্যাটজিপিটি ও আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্সের মতো নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা র্অজন করে শিক্ষার্থীরা যেনো চর্তুথ শিল্প বিপ্লবে অবদান রাখতে পার তাদের সেভাবে গড়ে তোলার পদক্ষেপ নিতে ডুয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে পরার্মশ দেন ।ডুয়ার জীবন সদস্য ও সংসদ সদস্য নাসের শাহরিয়ার জাহোদি এমপি বলেন, ডুয়াকে একটি সম্মলিত বড় ফান্ড তৈরীর মাধ্যমে কাজ করতে হবে। এক্ষেত্র ডুয়ার সক্ষম সকল সদস্যকে এই সংগঠনে আর্থিক সহযোগিতা করার পরার্মশ দেন তিনি।ডুয়া’র মহাসচবি মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওসার বলেন যদিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিৎ ডুয়াকে সব কাজে আন্তরিকভাবে সহযোগীতা করা, কিন্তু নানা কাজে উল্টো প্রতিবন্ধকতা ও অনাগ্রহের শিকার হয় ডুয়া। ডুয়ার সাবেক মহাসচিব রঞ্জন র্কমকার তুলে ধরনে কিভাবে ডুয়া প্রতিবছর প্রায় ৬ কোটি টাকা বৃত্তি দিয়ে ঢাবি শিক্ষার্থীদের সহযোগীতা করছে আবার সারাদেশে মাদক, বাল্যবিবাহ ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে গণসচেতনতা কর্মসূচিতে নিযোজিত করছে।ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. আব্দুল মান্নান চৌধুরী বলেন শিক্ষাথী ও শিক্ষার উন্নয়নে ডুয়া’র কার্যক্রম বেড়েছে। এসব উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যা্লেয় সাবেক ছাত্রছাত্রীদের মানবিক স্বপ্নকে জাগিয়ে রাখছে।ডুয়ার জীবন সদস্য ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইসহাক আলী পান্না বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ডুয়ার অনুদান দেয়া ঠিক হবে না শিক্ষার্থীদের বৃত্তি সহ নানা সহযোগীতায় ডুয়ার কার্যক্রম বাড়ানো উচিৎ।